শুক্রবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১৩

এখন অনলাইনে নাটোরের কাঁচাগোল্লা

এখন আর নাটোরে গিয়ে কাঁচাগোল্লা কিনতে হবে না, দেশের যে কোন এলাকা থেকে অনলাইনে ঘড়ে বসে কিনতে পাড়বেন নাটোরের কাঁচাগোল্ল। নাটোরের কাচাগোল্লার সুখ্যাতি দেশের অনাচে-কানাচে ছড়িয়ে দিতে নাটোরের একদল তরুণ প্রজন্ম নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। তাদের এই http://natorerkachagolla.com/ ওয়েবসাইটটির পাতায় গেলে দেখা যাবে নাটোরের তৈরি কাঁচাগোল্লা কিছু তথ্য। পাশে দাম ও বিবরণ রয়েছে। একটি ফোন নম্বর দেয়া আছে। চাইলে অনলাইনেও অর্ডার দিতে পারেন আবার ফোন করেও কিনতে পারেন। ওয়েবসাইটের বাইরেও সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ফেসবুকে নাটোরের কাঁচাগোল্লা (www.facebook.com/NatorerKachaGolla) পেজে খুলেও বেচাকেনা চলছে হরদম।
বাংলাদেশে বেশ কয়েক বছর ধরেই অনলাইনে কেনাকাটার আগ্রহ বাড়ছে মানুষের মাঝে। কর্মব্যস্ততার কারণে সঠিক জাগায়ার সঠিক জিনিস কিনতে না পাড়ায়। অনলাইন কেনাকাটার উপড় ক্রেতাদের আগ্রহ দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঢাকায় থাকেন শরীফুল ইসলাম। তিনি বললেন, কয়েক দিন আগে বন্ধুদেরকে বাসাতে দাওয়াত দিয়ে ছিলাম। খাবারের সাথে মিষ্টির আইটেম হিসাবে বেছে নিলাম কাঁচাগোলা। এটা সম্ভব হয়েছে নাটোরের কাঁচাগোল্লা অনলাইনে কেনার মধ্যে দিয়ে। নাটোরবাসী মাহমুদ চাকরী করেন কেরানীগঞ্জে। তিনি জানালেন, কেরানীগঞ্জে ভাল কাঁচাগোল্লা পাওয়া যায় না। তাই নাটোর গেলে কাঁচাগোল্লা সঙ্গেকরে নিয়ে আসি। আর এখন তো অনলাইনে কেনা যাচ্ছে নাটোরের কাঁচাগোল্লা। তাই যখন খেতে ইচ্ছে হয় অনলাইনে অডার করলেই পেয়ে যায়। চট্টগ্রামে ব্যবসা করেন মনির হোসেন। তিনি বলেলন, আমি আগে কখনো কাঁচাগোল্লা খাইনি। এক বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে কাঁচাগোল্লার খাওয়ার সৌভাগ্য হয়। এরপর থেকে ওই বন্ধুকে নাটোর থেকে কাঁচাগোল্লা আনার কথা প্রায় বলতাম। অনলাইনে কাঁচাগোল্লা কেনা-কাটায় আমার অনেক উপকারে এসেছে। এখন আর বন্ধুকে বিরক্ত করতে হয়না। আমি ঘরে বসে নাটোরের কাঁচাগোল্লা কিনতে পাড়ি।
এই অনলাইন শপের উদ্গতা বলছিলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশে এভাবে কেনাকাটার ধারণা থাকলেও আমাদের দেশে নতুন শুরু হয়েছে। তাই নাটোরের কাঁচাগোল্লা দেশের সকলে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেই এই ওয়েবসাইট চালু করি।
চলুন এবার জেনেনিই কাঁচাগোল্লার গোড়ার কথা :::::
কাঁচাগোল্লা গোল নয়, লম্বা নয়, আবার কাঁচাও নয়। তবুও নাম তার কাঁচাগোল্লা! এই নামেই পরিচিতি দেশ-বিদেশে। আনুমানিক আড়াই’শ বছর পূর্বেও নাটোরের কাঁচাগোল্লার কথা ইতিহাসে পাওয়া যায়। সুপ্রাচীন কাল থেকে মিষ্টি রসিকদের রসনা তৃপ্ত করে আসছে এই মিষ্টি। তবে ১৭৫৭ সাল থেকে এই মিষ্টি ব্যপকভাবে পরিচিতি লাভ করে। কাঁচাগোল্লার স্বাদ রসগোল্লা, পানিতোয়া, এমনকি অবাক সন্দেশকেও হার মানিয়ে দেয়। এর রয়েছে একটি মিষ্টি কাঁচা ছানার গন্ধ যা অন্য কোন মিষ্টিতে পাওয়া যায়না। ধীরে ধীরে মিষ্টি রসিকরা এই মিষ্টির প্রতি আকৃষ্ট হতে থাকেন। ১৭৬০ সালে অর্ধবঙ্গেশ্বরী বাংলার দানশীলা শাসনকর্তা রানী ভবাণীর রাজত্বকালে কাঁচাগোল্লার সুখ্যাতি দেশ-বিদেশে ছড়াতে থাকে। সেই সময় নাটোরে মিষ্টির দোকান ছিল খুবই কম। এসব দোকানে বিখ্যাত কাঁচাগোল্লা ছাড়াও অবাক সন্দেশ, রাঘবশাহী, চমচম, রাজভোগ, রসমালাই, পানিতোয়া, প্রভৃতি মিষ্টি ছিল অন্যতম। তবে এর মধ্যে সবার শীর্ষে উঠে আসে কাঁচাগোল্লা। ফলে সে সময় রাজা-জমিদারদের মিষ্টিমুখ করতে ব্যবহৃত হতো এই বিখ্যাত কাঁচাগোল্লা। এমনকি বিলেতের রাজ পরিবার পর্যন্ত এই কাঁচাগোল্লা যেত। আরও যেত ভারতবর্ষের সর্বত্র। রাজশাহী গেজেট পত্রিকাতেও কাঁচাগোল্লার সুখ্যাতির কথা বলা হয়েছে। কোলকাতার বিভিন্ন পত্র-পত্রিকাতে সেই সময় কাঁচাগোল্লার সুখ্যাতি নিয়ে লেখালেখি হয়েছে। কোলকাতা এবং নাটোর শহর একই সময় প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় ও এই দুই শহরের ঘনিষ্ঠ সার্বনিক যোগাযোগ থাকায় নাটোরের কাঁচাগোল্লার কথা ভারত, ইংল্যান্ডসহ তৎকালীন বিভিন্ন রাষ্ট্রে নাটোরের কাঁচাগোল্লার কথা ছড়িয়ে পরে। এভাবেই কাঁচাগেল্লা পায় আন্তর্জাতিকতা।
নাটোর শহরের নির্দিষ্ট কিছু দোকান ছাড়া এই মিষ্টি কিনলে ঠকে যাওয়ার আছে। ভ্রাম্যমান হকারদের কাছ থেকে কাঁচাগোল্লা কিনলে প্রতারিত হওয়া সম্ভাবনাই বেশি। হকাররা দামও যেমন বেশি নিতে পারে আবার নকল কাঁচাগোল্লা দিতে পারে। সুতরাং নির্দিষ্ট দোকান থেকেই কাঁচাগোল্লা কেনা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এছাড়া অনলাইনে এই http://natorerkachagolla.com/ ওয়েবসাইট যখন খুশি কিনতে পাড়বেন ভালমানের নাটোরের কাঁচাগোল্লা।